বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী | Bibhutibhushan Bandyopadhyay Biography In Bengali [PDF]

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী, প্রিয় সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, স্কুল প্রজেক্ট, চাঁদের পাহাড়, পথের পাঁচালী, গল্প, উপন্যাস (Bibhutibhushan Bandyopadhyay Biography In Bengali PDF, Bibhutibhushan Bandyopadhyay Wikipedia In Bengali) [Bibhutibhushan Bandyopadhyay Wiki 2021, Famous Characters, Autobiography In Bengali)

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনী

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের অনেকেরই প্রিয় সাহিত্যিক। কত ভালো চরিত্র আমাদের তিনি উপহার দিয়ে গেছেন। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী মুরাতিপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত। পান্ডিত্য ও কথকতার জন্য তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন। বিভূতিভূষণের শৈশব পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরেই কাটে।

Bibhutibhushan Bandyopadhyay
নামবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম তারিখ১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪
জন্মস্থানমুরাতিপুর, পশ্চিমবঙ্গ
পিতামহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়
মাতামৃণালিনী
সন্তানতারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
পেশালেখক
মৃত্যু তারিখ১ নভেম্বর ১৯৫০
মৃত্যুর কারণহার্ট অ্যাটাক
মৃত্যুর স্থানঘাটশিলা, ভারত

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের শৈশব

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায় ছিলেন একজন ‘কথক’ যিনি জীবিকার জন্য গল্প আবৃত্তি করেন এবং একজন সংস্কৃত পণ্ডিতও। বিভূতিভূষণ বনগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে তার স্কুল পড়াশোনা শুরু করেন। বিভূতিভূষণের শৈশব এবং প্রাথমিক জীবন দারিদ্র্যের মেঘের ছায়ায় কেটেছে।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবন

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। যেহেতু তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির জন্য আর্থিকভাবে শক্তিশালী ছিলেন না, তাই তাকে পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছিল। এর পরে, তার পরিবারের অর্থনৈতিক সুস্থতার বোঝা তার কাঁধে এসে পড়ে। তিনি যে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একই স্কুলে শিক্ষকতাও করেছিলেন।

পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি হুগলির একটি মাইনর স্কুলে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করেন। কিছুদিন তিনি গোরক্ষিণী সভার ভ্রাম্যমাণ প্রচারক হিসেবে বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। পরে তিনি খেলাৎচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে সেক্রেটারি ও গৃহশিক্ষক এবং তাঁর এস্টেটের ভাগলপুর সার্কেলের সহকারী ম্যানেজার হন। পরে ধর্মতলাস্থ খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর তিনি গোপালনগর স্কুলে যোগদান করেন এবং আজীবন সেখানেই কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্যিক জীবনের শুরু

বন্দোপাধ্যায়ের পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে, তাকে গুরুত্ব সহকারে লেখালেখি শুরু করার আগে বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছিল। তিনি যে স্কুলে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন সেই স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছিলেন, তিনি একজন সচিবের চাকরিও নিয়েছিলেন এবং এমনকি একটি এস্টেটও পরিচালনা করেছিলেন।

অবশেষে ১৯২১ সালে তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু হয় একটি সাহিত্য ম্যাগাজিনে প্রথম ছোটগল্প “উপক্ষিতা” প্রকাশের মধ্যে দিয়ে। যার বাংলার নাম ‘প্রবাসী’। কিন্তু ১৯২৮ অবধি বন্দোপাধ্যায় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ প্রকাশ করেননি, যার জন্য তিনি সমালোচনামূলক মনোযোগ এবং প্রশংসা পেয়েছিলেন। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্যে বিশিষ্ট নাম হয়ে ওঠেন।

পথের পাঁচালী ও বিভূতিভূষণ

‘পথের পাঁচালী’ প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। অপরাজিত পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ। উভয়গ্রন্থে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় পথের পাঁচালীকে চলচ্চিত্রে রূপদানের মাধ্যমে তাঁর পরিচালক জীবন শুরু করেন। পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় প্রতিদিন বনের মধ্যে কয়েক মাইল হাঁটতেন এবং সঙ্গে একটি বই বহন করতেন। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে তার চিন্তাভাবনা লিখতে পছন্দ করতেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পথের পাঁচালী’ তুলে নিয়েছিলেন এবং একই নামের একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন।

Some of the most famous works of Bibhutibhushan Bandyopadhyay are:

  • Pather Panchali
  • Chander Pahar
  • Adarsha Hindu Hotel
  • Aparajito
  • Ichhamati
  • Hire Manik Jale
  • Bipiner Sangsar
  • Aranyak
  • Dristi Pradeep
  • Debjan

বৈবাহিক জীবন এবং সম্পর্ক

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবী বিয়ের এক বছর পর সন্তান প্রসবের সময় মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনা তার জীবনে একাকীত্বের ছায়া নিয়ে এসেছিল। তিনি ৪৬ বছর বয়সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রমা চট্টোপাধ্যায়ের সাথে পুনরায় বিয়ে করেন, যার কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু

১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর ঘাটশিলায় থাকাকালীন হৃদরোগে মারা যান। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৬ বছর।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

close