Netaji Subhas Chandra Bose Bengali Speech (23 January 2022) | নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রচনা [PDF]

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রচনা, ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজি সম্পর্কে প্রতিবেদন রচনা, নেতাজি জয়ন্তী প্রবন্ধ রচনা [Netaji Subhas Chandra Bose Bengali Speech, 23 January Speech In Bengali] (Bengali Netaji Jayanti Speech 2022, Short, Long, 200 Words, 500 Words, 1000 Words, PDF Download)

নেতাজির ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা নিয়ে এসেছি Netaji Subhas Chandra Bose Speech & Paragraph In Bengali এই ২৩ শে জানুয়ারি তে আপনিও এই নেতাজি সম্পর্কে রচনা, আপনার স্কুলে ও কলেজে বক্তিতা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে দেখে নেওয়া যাক 23 January Bengali Speech with PDF

23 January Bengali Speech on Netaji Subhas Chandra Bose

Netaji Subhas Chandra Bose Bengali Speech
Netaji Subhas Chandra Bose Bengali Speech

আজ আমরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের এমন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ককে স্মরণ করে তাকে শ্রদ্ধা অর্পন করবো, যে ছিল সমগ্র বাংলা তথা বাঙালির গর্ব। ভারতের স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে যার অবদান অসামান্য তার নাম নেতাজি। নেতাজি বলতে বাঙালি একজন কেই বোঝে তার নাম সুভাষচন্দ্র বসু

ভারতবাসী প্রায় দুশো বছর ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ছিল সেই সময় কালে অনেক বিপ্লবী এসেছেন যারা দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি দায়িত্বের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বিগুণ ভাবে বাড়িয়ে তুলেছিলেন। আর এদের মধ্যে যিনি আমাদের শিরদাঁড়া কে সান দেওয়ার পাঠ দিয়ে গেছেন তার নাম সুভাষচন্দ্র বসু।

সুভাষচন্দ্র বসু যিনি নিজের শিক্ষকের ভারত বিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন কৈশোরে। সুভাষচন্দ্র বসু সেই স্বপ্নের নাম যা গোটা দেশকে শিখিয়েছিল ভারতীয়রা যদি চায় গোটা দেশে স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করতেই পারে। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক, আদর্শবাদী নেতা সর্বোপরি একজন সাহসী মানুষ।

তাই এই 23 জানুয়ারি তার 125 তম জন্মজয়ন্তীর দিন তার সম্পর্কে বহুচর্চিত তথ্য আরও একবার ফিরে দেখা। আসলে এইভাবেই আমরা সেই মহান পুরুষকে মনে করে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে পারি।

1897 সালের 23 জানুয়ারি বর্তমান উড়িষ্যার কটক শহরে আইনজীবী জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর কোল আলো করে জন্ম গ্রহণ করেন সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজির মধ্যে দেশপ্রেম ব্যাপারটা জাগে তার বাবার হাত ধরেই। জন্ম থেকেই নেতাজির মধ্যে দেশাত্মবোধ ও দেশের প্রতি প্রেম প্রবল ছিল।

ছোটবেলা থেকেই সুভাষচন্দ্র পড়াশোনার ব্যাপারে বেশ মনোযোগী ছিলেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কটকের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে। তারপর তিনি 1909 সালে ভর্তি হন রভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে। 1911 সালে নেতাজি মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে

ছোট থেকেই বই পড়তে ভালবাসেন তিনি, বিতর্কতে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ -এর পরম ভক্ত। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও লেখা বই তাকে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী তে পরিণত করেছিল।

তারপর তিনি 1918 সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে দর্শনে সাম্মানিক সহ বি.এ পাস করেন। তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে নিয়োগপত্র পেয়ে যান কিন্তু বিপ্লব সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি হওয়ার জন্য সেই নিয়োগপত্র তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

ব্রিটিশ সরকারের দাস না হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাকেই তিনি শ্রেয় বলে মনে করেন এবং যোগদান করেন সক্রিয় রাজনীতিতে।

স্কুলে পড়াশোনা করার সময়ই তিনি তার শিক্ষকের হাত ধরে পরিচিত হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে। পরবর্তীকালে তার হাত ধরেই নেতাজির রাজনীতিতে হাতেখড়ি।

1919 সালে রাওলাট আইন চালু হলে বিদেশে থাকা সুভাষ দেশে ফিরে আসেন এই আইনের বিরোধিতা করার জন্য। তিনি তাঁর কুড়ি বছরের রাজনৈতিক জীবনে এগারো বার ব্রিটিশদের হাতে গ্রেফতার হন এবং 1930 সালে ব্রিটিশদের কার্যকলাপের বিরোধিতা করার জন্য তাকে নির্বাসিত করা হয় ইউরোপে।

1938 সালে তিনি গান্ধীজীর বিরোধিতা করেন। তুলে ধরেন পূর্ণ স্বরাজের দাবি। তিনি অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শ থেকে দেশবাসীর মোহভঙ্গ করেন এবং সশস্ত্র আন্দোলন ছাড়া যে স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব নয় তিনি এটা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারেন।

তৎকালীন ভারতের যুব সমাজ ও জহরলাল নেহেরুর মত নেতারা তাকে সমর্থন করেন। গান্ধীজীর বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করে নির্বাচিত হন কংগ্রেসের সভাপতি পদে।

1939 সালে ত্রিপুরা অধিবেশনে তিনি পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা তার পদত্যাগের দাবি করলে তিনি নিজেই কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন গৃহবন্দি। বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত ব্রিটিশদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় তিনি দেশ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার দলের একজনকে নিয়ে তিনি জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

আফগানিস্তান ও সোভিয়েত রাশিয়া হয়ে তিনি জার্মানি পৌঁছান হিটলারের সাহায্য পাওয়ার আশায় কিন্তু হিটলার সম্মতি দেননি ও সাহায্যের হাত বাড়াননি। 1943 সালে তিনি জার্মান ত্যাগ করেন ও জাপান পৌঁছান।

সিঙ্গাপুরে রাসবিহারী বসু গড়ে তুলেছিলেন ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (INA)। রাসবিহারী বসু এই সেনাবাহিনীর দায়িত্ব তুলে দেন সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে। নারী সেনাবাহিনী সহ এই জাতীয় সেনাবাহিনীতে ছিল প্রায় 85000 সেনা। এই বাহিনীর নাম বদল করে নেতাজি এর নাম রাখেন আজাদ হিন্দ ফৌজ

এই আজাদ হিন্দ ফৌজ সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘নেতাজী’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। নেতাজির নেতৃত্বে এই বাহিনী ইংরেজদের উপর আক্রমণ করে। আক্রমণের পরেও খুব কমসংখ্যক ভারতীয় সেনা এই বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে জাপান আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করলে এই জাতীয় সেনাবাহিনীও আত্মসমর্পণ করে। রবি ঠাকুর তাঁর ‘তাসের দেশ’ নাটকে সুভাষচন্দ্র বসু কে ‘দেশনায়ক’ উপাধি দেন।

তার উক্তি ‘জয় হিন্দ’ আজও ভারতের এক হওয়ার স্লোগান। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন “তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো”। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সমগ্র দেশ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল।

নেতাজির মৃত্যু সত্যতা সম্পর্কে আজও মানুষ অজানা। 1945 সালের 18 আগস্ট জাপানের এক বিমানবন্দর থেকে প্লেনে করে আসার সময় বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। যদিও এই তথ্যের মধ্যে কতটা সত্যতা আছে তা আজও আমাদের কাছে রহস্যময়।

কিন্তু নেতাজি আমাদের ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য যা করে গেছেন তা কখনোই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। আজও যখন মানুষ আপোষহীন ভাবে জীবনের লড়াই চালিয়ে যায়, নেতাজির কথা আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।

আজও আমাদের কথোপকথনের মাঝে এই কথাটি ভেসে ওঠে নেতাজি থাকলে দেশটাই অন্যরকম হতো। আজও ভারতের যুব সমাজ নেতাজির আদর্শ অনুসরণ করে দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করে।

আমরা আমাদের নেতাজি কে বাঁচিয়ে রেখেছি আমাদের হৃদয় অভ্যন্তরে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রয়েছেন আমাদের প্রত্যেকের জীবন ও আদর্শের লড়াইতে।

Download Subhas Chandra Bose Bengali Speech PDF

Download PDF

Final Words

আমাদের এই Bengali Netaji Subhas Chandra Bose Speech -টি দ্বারা যদি আপনি একটুও উপকৃত হয়ে থাকেন তবে কমেন্ট বক্সে সুন্দর একটি কমেন্ট ছেড়ে যান। আমাদের ওয়েব সাইটে এরকমই রোজ নতুন পোষ্ট করা হয় সেগুলো পেতে আমাদের ওয়েব সাইটটিকে বুকমার্ক করে রাখুন। পরবর্তীতে আরও 23 January Bengali বিষয়ে পোষ্ট করা হবে সেগুলোর আপডেটস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক করে পাশে থাকুন।

3 Comments

    1. সুভাশীষ ত্রিপাঠীsays:

      সত্যি, নেতাজী আমাদের মধ্যে সর্বদাই বেঁচে ছিলেন,আছেন, থাকবেন।
      জয় নেতাজী 🙏🙏🙏

Leave a Reply

Your email address will not be published.

close