Rakhi Bandhan 2022: রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা, উক্তি, ইতিহাস

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা, রাখি বন্ধন নিয়ে উক্তি, রাখি পূর্ণিমার ইতিহাস [Few Lines on Raksha Bandhan in Bengali, History of Rakhi Bandhan in Bengali] (Raksha Bandhan Essay 10 Lines in Bengali, Short Paragraph on Rakhi Bandhan Bangla)

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা

রাখি বন্ধন ভারতীয়দের মধ্যে একটি উত্সব | এর তিন রকম বিষয় আছে | এক রামাযানে রাম সমস্ত বানর সেনাদের ফুল দিয়ে রাখি বেধে ছিলেন | দুই লক্ষ্মী বলিকে ভাই হিসেবে মেনে রাখি পরিয়েছিল যাতে সে উপহার স্বরূপ বিস্নুকে সর্গে তার কাছে ফিরে যেতে বলে | তিন সাম্প্রদায়িকতা মেটাতে রবীন্দ্রনাথ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাখি বন্ধন উথ্সব প্রচলন করেন | যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২ এর নিয়মই পালন করা হয় | এই নিয়মটি যদিও একটি একাধিপত্যের বার্তা বহন করে | এই সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হতে হবে | এখন অবশ্য জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন ধরনের রাখি উত্সব পালন করা হয় ,সেটা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে |

রক্ষা বন্ধন উৎসবে ভাইবোনের মধ্যকার স্বর্গীয় সম্পর্ক উদযাপন করা হয়। রাখী নামেও পরিচিত এই রক্ষা বন্ধন প্রতি বছর শ্রাবন মাসের পূর্ণিমার দিন পালন করা হয়। বোনেরা তাদের ভাইদের হাতের কব্জিতে সুন্দর সুন্দর পবিত্র সূতা বেঁধে দেয় যা ‘নিরাপত্তা ও রক্ষা বন্ধন’ চিহ্ন হিসেবে প্রকাশিত। তারা তাদের ভাইদের মঙ্গল কামনা করে এবং ভাইয়েরা বোনদের রক্ষা করা প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। ঐ দিন পরিবারের সকলে একত্রে মিলিত হয়, বিশেষ খাবার দাবারের ও উপহারের ব্যবস্থা করা হয় এবং সকলে মিলে আনন্দ ফুর্তিতে মেতে ওঠে। এই বিশেষ দিনে পরিবেশে “যম” তত্ত্ব বেশি থাকে, এতে ভাইয়ের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু রাখি বন্ধনের ফলে তা দূর হয়ে যায়।

রাখি বন্ধনের ইতিহাস

সুভদ্রা কৃষ্ণের ছোট বোন, কৃষ্ণ সুভদ্রাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তবে আপন বোন না হয়েও দ্রৌপদী ছিলেন কৃষ্ণের অতীব স্নেহভাজন। একদিন সুভদ্রা কিছুটা অভিমান ভরে কৃষ্ণকে প্রশ্ন করলেন এর কারন। উত্তরে কৃষ্ণ বললেন যথা সময়ে এর কারন তুমি বুঝতে পারবে।

এর কিছুদিন পর শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে রক্ত পড়ছিল, তা দেখে সুভদ্রা রক্ত বন্ধের জন্য কাপড় খুঁজছিলেন, কিন্তু মন মত পাতলা সাধারন কাপড় পাচ্ছিলেন না, এর মাঝে দ্রৌপদী সেখানে আসলেন, দেখে বিন্দুমাত্র দেরি না করে সাথে সাথে নিজের মুল্যবান রেশম শাড়ি ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাত বেধে দিলেন, কিছুক্ষন পর রক্তপাত বন্ধ হল। তখন শ্রীকৃষ্ণ বোন সুভদ্রা কে ডেকে বললেন- এখন বুঝতে পেরেছ কেন আমি দ্রৌপদীকে এত স্নেহ করি? সুভদ্রা বুঝতে পারল ভক্তি ও পবিত্র ভালবাসা, শ্রদ্ধা কি জিনিস! দাদা কৃষ্ণের চেয়ে মুল্যবান বস্ত্র নিজের কাছে বেশি প্রিয় এটা ভেবে সুভদ্রা দারুন লজ্জিত হলেন।

কোন বোন তার ভাইয়ের কোনোরূপ কষ্ট, অমঙ্গল সহ্য করতে পারে না। ভাইয়ের কষ্ট দুরের জন্য সে সর্বত্তম চেষ্টা করে। অন্যদিকে ভাই ও তার বোন কে পৃথিবীতে সর্বাধিক স্নেহ করে, সারাজীবন তাকে রক্ষা করে থাকে, যেরকম শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রাজসভায় চরম কলঙ্ক থেকে রক্ষা করেছিলেন।

সকল ভাইবোনের উচিত এই পবিত্র দিনে মনে এরকম ভক্তিভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। কৃত্রিমতা, যান্ত্রিকতার এই বর্তমান যুগে ভাই বোনের মাঝে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার বড় অভাব। সনাতন ধর্মে বড় বোন/দিদিকে মাতৃস্থানীয় এবং বড় ভাইকে পিতৃস্থানীয় সম্মান ও ভালবাসা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

শুভ রাখি পূর্ণিমা।।

আরো পড়ুন – রাখি বন্ধন রচনা (৪০০ শব্দের)

আমাদের ওয়েবসাইটে এরকম আরো বাঙালির সেরা উৎসব গুলো নিয়ে বাংলা রচনা পোস্ট করা হবে। সেগুলো পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন। অথবা গুগলে গিয়ে সার্চ করবেন Banglaalyrics ধন্যবাদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

close