রাখি উৎসব রচনা | Rakhi Purnima Rachana (2022)

রাখি বন্ধন উৎসব রচনা, রাখি পূর্ণিমা নিয়ে রচনা, রাখি নিয়ে কিছু কথা ২০২২ [Rakhi Purnima Rachana, Rakhi Bandhan Rachana 2022] (Rakhi Bandhan Paragraph in Bengali, Rakhi Purnima History in Bengali)

রাখি বন্ধন রচনা

রাখি বন্ধন রচনা

ভূমিকাঃ রাখি বন্ধন উৎসব হল ভাই ও বোনের সম্পর্ককে সুমধুর ও গভীর থেকে গভীরতম করে তোলার উৎসব। এই দিন বোন বা দিদিরা তাঁর ভাইকে শুধু রাখি বাঁধে তা নয়। এই দিন দিদি বা বোন তাঁর বোনকেও রাখি পড়ায়। রাখি বাঁধার পর মিষ্টি মুখ করায় দিদি বা বোনেরা। এরপর ভাই বা দাদার মঙ্গল কামনায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানায় বোনেরা। আর ভাই বা দাদারা বোন বা দিদিকে উপহার দেয় নিজেদের সাধ্যমতো।

উৎসবের সূচনা ও বৈশিষ্ট্যঃ ১৯০৫ সালে ইংরেজ সরকার বাঙালি জাতিকে দুর্বল করার জন্য শাসনকার্যের সুবিধার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাকে দুভাগে ভাগ করার আদেশ দেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বঙ্গভঙ্গ’কে রোধ করার জন্য হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক অটুট রাখতে রাখিবন্ধন উৎসবের প্রচলন করেন। এরফলে বাংলার সমস্ত মানুষ একে অপরের হাতে রাখি পড়িয়ে দেন। এরপর থেকেই গোটা দেশে রাখি বন্ধন উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখি বন্ধন উৎসব পালিত হয়। কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণের হাত সুদর্শন চক্রে কেটে গিয়েছিল তখন দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল ছিড়ে শ্রীকৃষ্ণের হাতে বেধে দেন তখনই প্রথম রাখির প্রচলন হয়। আবার পুরাণে আছে রাক্ষসদের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার আগে ইন্দ্রদেবের সুরক্ষার জন্য তাঁর পত্নী শচীদেবী তাঁর হাতে রাখি পড়িয়ে দেন।

ইতিহাসে আছে বাহাদুর শাহ যখন মেবার আক্রমন করেন। মেবারের রাণী কমলাদেবী ভারত সম্রাট হুমায়ুনকে রাখি পাঠিয়ে তাঁর সাহায্য চেয়েছিলেন। আর হুমায়ুনও সেই রাখির সম্মান রাখতে বোন কমলাকে মেবারে ছুটে গিয়েছিলেন। কাহিনীতে আছে রাবণকে হারিয়ে লঙ্কা বিজয়ের পর সেখান কার নারীরা বন্ধুত্বের স্বীকৃতি হিসাবে শ্রীরামচন্দ্রের হাতে রাখি পড়িয়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে আজও বহুমানুষ ভগবানের হাতে রাখি পড়িয়ে দেন, নিজের মঙ্গল কামনার জন্য।

রাখি বন্ধন উৎসবের দিন বোন বা দিদিরা ভাই বা দাদার হাতে রাখি পড়িয়ে দেয়। ভাই বা দাদার তাদের বোন বা দিদিকে উপহার দেয়। এবং একে অপরের মঙ্গল কামনা করে ভগবানের কাছে। এই উৎসব কেবলমাত্র হিন্দু সমাজেই নয় সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন জাতীর মধ্যে আনন্দের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

উপসংহারঃ রাখি বন্ধন উৎসবের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতী মিলেমিশে এক জাতীতে পরিণত হয়। কবি রবীন্দ্রনাথ যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এই রাখি বন্ধন উৎসবের প্রচলন করেছিলেন তা সম্পূর্ণ রূপে সার্থক হয়েছে। ইংরেজদের কূটনীতিতে বাংলা একদিন দু-টুকরো হয়েছে। ইংরেজরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার সময় ভারতবর্ষকে দুভাগে ভাগ করে দিয়ে যায়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বাংলাকে দেশের দিক থেকে ভাগ করা গেলেও মনের দিক থেকে বা মানসিক দিক থেকে আলাদা করা যায়নি। সেই কারণেই তাঁর রচিত দুইটি সঙ্গীত ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

শুভ রাখি পূর্ণিমা।।

আরো পড়ুন – রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা

আমাদের ওয়েবসাইটে এরকম আরো বাঙালির সেরা উৎসব গুলো নিয়ে বাংলা রচনা পোস্ট করা হবে। সেগুলো পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন। অথবা গুগলে গিয়ে সার্চ করবেন “Banglaalyrics” ধন্যবাদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

close